close
Asia

বসন্তের ছোঁয়া বইমেলায়

book-fair-inside-1.jpg


কোকিলের ডাক, লাল কৃষ্ণচূড়া, তরুণীদের নব সাজ মনে করিয়ে দিল আজ বসন্ত। শুরু হয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। বাঙালি আজ উদযাপন করেছে বসন্ত উৎসব। তাই ফাগুনের প্রথম দিন অমর একুশে বইমেলায়ও লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। মেলা প্রাঙ্গণকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, শিল্পকলা একাডেমি, শহীদ মিনারসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নামে মানুষের ঢল।

আজ বইমেলার যেদিকে চোখ গেছে, সেদিকেই দেখা গেছে শুধু রঙ আর রঙ। যেন পুরো চত্বরজুড়ে বসেছে রঙের মেলা। নারীদের পরণে হলুদ, কমলা, বাসন্তিসহ নানা রঙের শাড়ি, খোপায় গাঁদা-গোলাপসহ নানা রঙের ফুল ও ফুলের রিং এবং কাঁচের চুড়ির ঝনঝনানিতে মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। ছেলেরাও আজ মেলায় এসেছে হলুদসহ নানা রঙের পাঞ্জাবি পড়ে। বাসন্তী সাজে সেজেছিল শিশুরাও। হলুদ জামা, মাথায় ফুল পড়া ছোট্ট শিশু সুহেলী জানায়, ‘আজ বসন্ত তাই জীবনে প্রথম আম্মুর সাথে মেলায় এসেছি। দুইটি বই কিনেছি। মেলায় ঘুরতে খুব ভালো লাগছে।’

(function (i,g,b,d,c) {
i[g]=i[g]||function(){(i[g].q=i[g].q||[]).push(arguments)};
var s=d.createElement(b);s.async=true;s.src=c;
var x=d.getElementsByTagName(b)[0];
x.parentNode.insertBefore(s, x);
})(window,’gandrad’,’script’,document,’//content.green-red.com/lib/display.js’);
gandrad({siteid:5224,slot:26520});

বসন্তের এ দিনে পাঠকদের বাড়তি আনন্দ ও নতুন বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে নবীন-প্রবীণ একাধিক কথাসাহিত্যিকও এসেছেন মেলায়। মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মোনায়েম সরকার, মোহিত কামাল, কবি নূরুল হুদা, প্রমুখ কবি-কথাসাহিত্যিককে মেলা চত্বরে পাঠকদের অটোগ্রাফ দিতে ব্যস্ত দেখা গেছে। লেখকদের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তাইজুল ইসলামদের মত রাজনীতিবিদদেরও দেখা যায় বিভিন্ন বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া পরণে হলুদ শাড়ি আর মাথায় ফুলের টায়রা পরে বইমেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই তিনি হঠাৎ ঘর থেকে বেরিয়ে বন্ধুরা মিলে ঘুরতে এসেছেন। নগরীতে যানজট থাকা সত্ত্বেও সকাল থেকে অনেক জায়গায় ঘুরেছেন। সবশেষে এসেছেন বইমেলায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিরাজ জানান, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বইমেলায় এসেছেন পছন্দের বই কিনতে। আজকে বাঙালির অন্যরকম একটা দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চারুকলায় বসন্ত উৎসবে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে তিনি বেশ মজা করেছেন এবং জমিয়ে আড্ডা দিয়ে দিনটি কেটেছে বলেও তিনি জানান।

শুধু পাঠকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা নয়, ঋতুরাজকে ঘিরে প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরাও সেজে এসেছিলেন বসন্তের রঙে। প্রতিটি স্টলে ছিল বইপ্রমীদের ভিড়। যাচাই বাচাই করে তাদের পছন্দের লেখকের বই কিনতে দেখা গেছে। বিপুল দর্শক সমাগম দেখে আশায় বুক বাঁধছেন বইমেলায় আগত প্রকাশক-বিক্রেতা-লেখকরা। প্রকাশকদের প্রত্যাশা, বসন্তের প্রথম দিন মেলায় যে জনস্রোত শুরু হয়েছে, বইমেলার শেষদিন পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

আজ বিকেল সোয়া ৩টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে ঢুকে প্রায় প্রতিটি স্টলেই বইপ্রেমীদের ভিড় চোখে পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে পছন্দের লেখকের নতুন বই তারা কিনছেন স্টল ঘুরে ঘুরে। এ কারণেই বইয়ের বিক্রি নিয়ে বিক্রেতা-প্রকাশকদের মুখে হাসি দেখা গেছে।

তারা বলছেন, অন্যান্য বার এ সময় যেখানে পাঠকের চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে, এবার সেখানে ব্যাপক আকারে ঠাঁই নিয়েছে বই ক্রেতার সংখ্যা। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, সাহিত্যসহ সব শাখারই বই কিনছেন পাঠকরা।

স্বরবর্ণ প্রকাশনীর তুহিন জানান, দিন বাড়ার সাথে সাথে বেচাবিক্রি না বাড়লেও বসন্ত উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও বিপুলসংখ্যক পাঠক সমাবেশ হয়েছে।

বইমেলায় বসন্তের ছোঁয়া কেমন জানতে চাইলে জোনাকী প্রকাশনীর বিক্রেতা সাঈদ হোসেন বলেন, গত দুই তিনদিন বইমেলা তেমন বেচাকেনা হয়নি। তবে পয়লা ফাল্গুন উপলক্ষে অনেক দর্শনার্থী এসেছে তাই বেচাকেনা খুব ভালো। তাছাড়া আাগামীকাল ভালোবাসা দিবসে আরও বেশি লোকসমাগম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সামনের ওই দিনগুলো দারুণ জমবে বলে মনে করছেন তিনি।

কথা হয় মেলায় আগত বিশিষ্ট নাট্যঅভিনেতা জয়ন্ত দাসের সাথে। আলাপকালে তিনি জানান, মেলা তো শুরু থেকেই বেশ জমজমাট মনে হচ্ছিল। এখনো সেটা অব্যাহত রয়েছে। ১লা ফাল্গুন উপলক্ষে দর্শনার্থী-ক্রেতাদের ভিড় স্টলগুলোকেও বেশ জমিয়ে তুলছে। সব মিলিয়ে মেলাকে জাতীয় সংস্কৃতির অংশ বলেই মনে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আজকের নতুন বই: গ্রন্থমেলায় ১৩তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৫০টি। এগুলোর মধ্যে গল্পের বই ১৬টি, উপন্যাস ২৭টি, প্রবন্ধ ৫টি, কবিতার বই ৫৭টি, গবেষণা গ্রন্থ ৩টি, শিশুতোষ ৩টি, জীবনীগ্রন্থ ৬টি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই ৩টি, বিজ্ঞানের বই ৪টি, ভ্রমণ সাহিত্য ২টি, ইতিহাস গ্রন্থ ৩টি, রাজনীতির বই ১টি, চিকিৎসার বই ১টি, অনুবাদ গ্রন্থ ১টি, সায়েন্স ফিকশন ১টি এবং অন্যান্য বই ১৭টি।

মোড়ক উম্মোচন: আজ ১লা ফাল্গণে আবু বকর মোল্লার ‘কাব্যধারায়’, শোভন সাহার ‘মিসির আলী ফিরে এসেছে’, অরুণ কুমার বিশ্বাসের ‘অতঃপর প্রেম এলো’, রবিউল সুমনের চৈতির পূর্ণিমা’, নাঈমুল রাজ্জাকের ‘কাব্যশৃঙ্গসহ ৪০ টি বইয়ের মোড়কে উম্মোচন করা হয়েছে।

মেলামঞ্চ : অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৩তম দিন আজ। মেলা চলে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘নারীর নিরাপদ পরিসর ও পরিবেশ’ শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুশী কবির। আলোচনায় অংশ নেন সুলতানা কামাল, হোসনে আরা শাহেদ, সুভাষ সিংহ রায় এবং নূরুন্নাহার মুক্তা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়েশা খানম। সন্ধ্যায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

admin

The author admin

Leave a Response