close
Asia

জাবি সাংবাদিকতা বিভাগে মাস্টার্সের ফল বিপর্যয়

no thumb


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের ফল বিপর্যয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে টিউটোরিয়ালের ফল প্রকাশ না করা ও খাতা শিক্ষার্থীদের ফেরত না দেয়াসহ নানা অভিযোগের কথাও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবার বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্সের ফল প্রকাশিত হয়েছে। অনার্স এবং মাস্টার্সের ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর ফলাফল অনার্সের চেয়ে মাস্টার্সে অবনতি হয়েছে। এদের মধ্য অন্তত সাতজন শিক্ষার্থীর সিজিপেএ অনার্সে ৩.৫০ এর ওপরে ছিল। বিভিন্ন বিভাগের একাধিক অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত শিক্ষার্থীরা অনার্সের চেয়ে মাস্টার্সে ফল ভালো করে। কিন্তু অনার্সে ভাল ফল করে মাস্টার্সের খারাপ করার কারণ খতিয়ে দেখা যেতে পারে। এখানে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা যাবে।

এ বিষয়ে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ডিপার্টমেন্টের রেজাল্ট শিক্ষকরা দেখেন। আমরা দেখি কোন কোন বিভাগ পরীক্ষা নিতে বিলম্ব করছে বা ফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে কিনা এসব। কিন্তু খাতায় মার্কিং করাটা একজন শিক্ষকের স্বাধীনতা। আর সেখানেতো আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। এখন সেই ক্ষেত্রে যদি তারা জোটবদ্ধভাবে করে তাহলে তো আমার কিছু করার থাকে না।’ কারও কারও প্রতি শিক্ষকেরা পক্ষপাতিত্ব করেছেন এমন অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা জানান, যারা মেধা তালিকা থেকে বিভাগে ভর্তি হয়েছিল তাদের প্রায় সবার ফলাফলই ক্রমাগত অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে পোষ্য কোটাসহ অন্য কোটার শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত উন্নতি হয়েছে। কেন মেধা তালিকার শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে পারছে না এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাস্টার্সে ৩.৬৮ পেয়ে সাঈদ আল জামান (অভি) দ্বিতীয় স্থান অধিকার লাভ করেছেন। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মান্নানের ছেলে সাঈদ পোষ্য কোটায় ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে গ্রেস নাম্বার নিয়ে বিভাগে ভর্তি হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয়বর্ষে তার ফলাফল নিচের দিকে থাকলেও আকস্মিকভাবে সে ভালো করতে থাকে। ৩.৫৮ পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার লাভ করা শিক্ষার্থী মিফাত নায়ারও কোটায় ভর্তি হয়েছিল বিভাগে। কিন্তু অনার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৪১। অন্যদিকে, অনার্সে সিজিপিএ ৩.৫০ বা তার বেশি ছিল কিন্তু মাস্টার্সে ৩.৫০-এর নিচে ফল হয়েছে এমন সাত জনের মধ্যে অন্যতম বিজয়া রহমান খান, সাদিয়া আফরিন, সুমন আলী। যাদের অনার্সে সিজিপিএ ছিল ৩.৫৪। অথচ তাদের মাস্টার্সে ফল যথাক্রমে ৩.৪৩, ৩.৩৫ এবং ৩.৪৫। এ ছাড়া অনার্সে ৩.৫২ ছিল শাহলা শাহনাজ দ্যুতি এবং মো. মিঠুন ইসলামের। মাস্টার্সে তাদের ফল হয়েছে যথাক্রমে ৩.৪২, ৩.৪০। ইমরান হোসেনের ফল ছিল ৩.৫১ যার মাস্টার্সে ফল হয়েছে ৩.৩১। এ বিষয়ে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. মিঠুন ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকেই পরীক্ষা ভাল দিয়েছি। অনার্সে ভাল ফলাফলে অনুপ্রাণিত হয়ে মাস্টার্সের পড়াশুনায় কোন ত্রুটি করিনি। আসলে আমরা এমন ফলাফলে খুবই হতাশ। এর বেশি কিছু বলার নেই।’

(function (i,g,b,d,c) {
i[g]=i[g]||function(){(i[g].q=i[g].q||[]).push(arguments)};
var s=d.createElement(b);s.async=true;s.src=c;
var x=d.getElementsByTagName(b)[0];
x.parentNode.insertBefore(s, x);
})(window,’gandrad’,’script’,document,’//content.green-red.com/lib/display.js’);
gandrad({siteid:5224,slot:22912});

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অধ্যাদেশ থেকে জানা যায়, ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সাত দিনের মধ্য টিউটোরিয়াল পরীক্ষার খাতা শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে হবে। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গত পাঁচ বছরে বিভাগে থেকে কোন শিক্ষক টিউটোরিয়াল পরীক্ষার খাতা কিংবা কোন অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতেন না। অথচ এখানে থেকেই শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি সম্পর্কে জানতে পারত। শিক্ষার্থীরা বিভাগের শিক্ষকদের হাতে জিম্মি দশার কারণে এতদিন কোন অভিযোগ করতে পারেনি। কিন্তু কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ বিষয়ে খোঁজ নেননি তা জানতে চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অনার্সে ভালো করলেই যে মাস্টার্সে ভালো করবে এমন নিশ্চায়তা তো নেই। তবুও আমি বিষয়টা দেখব। এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি ও মাস্টার্সের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল কুমার ম-ল বলেন, ‘রেজাল্ট ভাল খারাপ এটা পরীক্ষা কমিটি বা বিভাগ সভাপতির ওপর নির্ভর করে না। তবে কারও ফলাফল ভালো হইলে হইতে পারে। একটা ইয়ারে যেকোন কেউ ভালো করতে পারে। এটাকে আমি ওইভাবে কিছু দেখছি না। তবে কেউ যদি তার খাতা দেখতে চায় তাহলে তা দেখতে পারে।’ টিউটোরিয়াল খাতা না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা আগে জানালে আমি শিক্ষকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে পারতাম। এটা তো এখন জানালে তো কোন সমাধান হবে না।’

admin

The author admin

Leave a Response